আবুবকর এর বর্ণনা শুনে আদালতে নির্বাক সুচি- চাঁপাই অনুসন্ধান
মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে মুসলিম সংখ্যালঘুদের ওপর চালানো গণহttaর দায়ে দেশটির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) দায়েরকৃত মামলার শুনানি শুরু হয়েছে আজ মঙ্গলবার। শুনানির শুরুতে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নির্বোধ হttaকাণ্ড বন্ধে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর মারি তামবাদো।
বার্তা সংস্থা রয়টার্স এক প্রতিবেদনে জানায়, মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে ওই মামলার শুনানির শুরু হয়। শুরুতেই প্রধান বিচারপতির উদ্দেশে গাম্বিয়ার আইন ও বিচারমন্ত্রী বলেন, ‘গাম্বিয়া যা বলছে তা হলো আপনি মিয়ানমারকে এই নির্বোধ হttaকাণ্ড বন্ধ করতে বলুন।’
দ্য হেগে রোহিঙ্গা গণহttaর এ বিচারপ্রক্রিয়ায় দেশের হয়ে আইনি লড়াই চালাতে আদালতে উপস্থিত রয়েছেন মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি। গাম্বিয়ার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির আইন ও বিচারমন্ত্রী আবুবকর।
শুনানির শুরুর দিনে আবুবকর রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর চালানো গণধsoণ, গণহtta, বাড়িঘর পু** ড়িয়ে দেওয়ার বর্ণনা দেন বিচারপতির সামনে। আর এ সময় মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চি নির্বাক দৃষ্টিতে শুধু তাকিয়ে শুনছিলেন।
আবুবকর আরও বলেন, ‘বর্বর ও নৃ** শংস এসব কাজ; যা আমাদের সবার বিবেককে আঘাত করেছে। এটি এখনও অব্যাহত আছে। নিজ দেশের মানুষকে গণহtta বন্ধ করতে হবে।’
আদালতে নির্বিকার সু চি আদালত কক্ষে গাম্বিয়ার আইনজীবী দলের সদস্যরা যখন মিয়ানমারের নৃশংসতার চিত্র তুলে ধরেন তখন নির্বিকার থাকতে দেখা যায় অং সান সু চিকে। এ সময় আদালতের বাইরে কয়েক ডজন রোহিঙ্গাকে ন্যায়বিচারের দাবিতে সমাবেশ করতে দেখা যায়।
একই সময়ে মিয়ানমারের বাণিজ্যিক রাজধানী খ্যাত ইয়াঙ্গুনে সু চির সমর্থনে হাজার হাজার মানুষ সমাবেশ করে। সমাবেশে আসা বার্মিজদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। অনেকেই ‘দেশের মর্যাদা রক্ষায়’, ‘জননী সু চির পাশে দাঁড়ান’ স্লোগান দেন।
গত ১১ নভেম্বর রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযানে গণহtta চালানোর অভি** যোগ এনে মিয়ানমারের নামে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতে মামলা করেছিল গাম্বিয়া। ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পক্ষে গাম্বিয়া এ মামলা করে। নিধনযজ্ঞ পেরিয়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবারের মতো কোনো দেশ এমন পদক্ষেপ নেয়।
রাখাইনে সংঘটিত রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞে সু চির বিরুদ্ধে গণহttaর অভিযোগ এনে গাম্বিয়ার করা মামলায় দেশটির পক্ষে আইনি লড়াইয়ের জন্য একটি টিম গঠিত হয়েছে। সেই টিমের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর সু চি।
আন্তর্জাতিক বিচার আদালত, যা বিশ্ব আদালত হিসেবেও পরিচিত তাতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে যে রোহিঙ্গাদের বি** রুদ্ধে মিয়ানমারের অভি** যানের মধ্যে ছিল হtta, গুরুতর শা** রীরিক ও মানসিক ক্ষতি সাধন, ভৌত বিনাশ বয়ে আনার মতো পরিস্থিতি তৈরি, জন্ম রোধের ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া ও জোরপূর্বক স্থানান্তর। এগুলো গণহttaর বৈশিষ্ট। কারণ এসবের উদ্দেশ্য ছিল রোহিঙ্গা গোষ্ঠীকে পুরোপুরি বা আংশিকভাবে ধ্বংস করে দেওয়া।
রাখাইন রাজ্যের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিদ্রোহীদের হা** মলার জবাবে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এক কঠোর বিদ্রোহ দমন অভি* যান শুরু করে। এ সময় গণধrsoণ, হtta ও ঘরবাড়ি জ্বা**লিয়ে দেওয়াসহ জাতিগত নির্মূল অভি**যান থেকে বাঁচতে সাত লাখের অধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেন।
চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জাতিসংঘের অনুসন্ধানী দলের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত রাখাইনে ছয় লাখ রোহিঙ্গা রয়েছে। অত্যন্ত শোচনীয় পরিস্থিতিতে যাদের বসবাস করতে হচ্ছে।

Post A Comment:
0 comments: