চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কালিনগরে আবার ছিন্তাই -- চাঁপাই অনুসন্ধান
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ১৪ নং সুন্দরপুর ইউনিয়নের কালিনগর গ্রামে একের পর এক ছিন্তাই এর মত জঘন্য ঘটনা ঘটেই চলেছে। গতকাল রাতে আবার সেম ঘটনা ঘটেছে কালিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের মেন রাস্তায়। সন্ধার পর উক্ত গ্রামের ইসমাইল কালিনগর বাজার হইতে বাড়ির ফেরার পথে রওনা দিলে কালিনগর স্কুল পাড়াতে আসা মাত্র ইসমাইল এর মোবাইল এ একটি কল আসে। আর ইসমাইল কল টা রিসিব করে কথা বলছে আর হাটছে এমন সময় পেছন থেকে সো করে একটি মোটরসাইকেল এসে ইসমাইল এর হাত থেকে মোবাইল টা ছিনিয়ে নিয়েই গাড়ি টান দিয়ে পালিয়ে যায়। ইসমাইল ছিন্তাকারী ছিন্তাকারী করতেই থাকল কিন্তু ছিন্তাকারী ততক্ষনে মোবাইল নিয়ে উধাও আর এমন ঘটনা কালিনগরে প্রায় ঘটছে।
কেউ কেউ বলছে এই সব ছিন্তাকারী কালিনগরের স্থানীয় কিছু মাদকাসক্ত ছেলেদের কাজ। যারা মাদকের টাকা জোগাড় করতে এমন সব অপকর্ম করে যাচ্ছে। আবার কেউ কেউ বলছেন এই সব ছিন্তাকারী বাইরের এলাকার এই সব ছিন্তাকারী কালিনগর গ্রামের হতেই পারেনা। দূর থেকে এসে এই ভাবে মোবাইল ছিন্তাই করে নিয়ে যাচ্ছে তারা। আর এই ছিন্তাকারী সিণ্ডিকেট একটাই রয়েছে যারা বার বার একি পদ্ধতিতে এই ভাবে মোবাইল ছিন্তাই করছে কালিনগরে।
বর্তমান সমাজের যে অবস্থা তাতে রাস্তায় এখন দাঁড়িয়ে কথা বলাও মহাবিপদ। কখন কোন সময় পেছন থেকে ছিন্তাকারী এসে মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় তার কোন গ্যারান্টি নেই।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার এই কালিনগর গ্রাম টি বেশ আগে থেকেই একটু ভিন্নরকম গ্রাম হিসেবে শহরের মানুষদের কাছে পরিচিত। এই কালিনগ গ্রামে এমন এক সময় ছিল যখন এই গ্রাম কে বলা হত চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার ভিতর বোমাবাজিতে অন্যতম কিন্তু কালের বিবর্তনে হারিয়ে গিয়েছে সেই বোমাবাজি কিন্তু বেরে গিয়েছে ছিন্তাই চুরি ডাকাতি সহ নানা অপকর্ম। আর এমন ভাবে মোবাইল ছিন্তাই এর মত ঘটনা এর আগে কখনো কালিনগরে ঘটেনি বলে স্থানীয় কিছু ব্যক্তি জানান।
আনুমানিক ১ বছর থেকে এই মোবাইল ছিন্তাই এর মত নেক্কারজনক ঘটনা ঘটেই চলছে। গেল এক বছরে আনুমানিক ১৫ থেকে ২০ টির মত ছিন্তাই হয়েছে এই কালিনগরে। মোটরসাইকেল ছিন্তাই-মোবাইল ছিন্তাই -সাইকেল ছিন্তাই - টাকা ছিন্তাই সহ বেশ কিছু অসামাজিক ছিন্তাই হয়েছে এই কালিনগর গ্রামে। দূর বহুদূর থেকে ঘুরতে আসেন অনেকেই কালিনগরের প্রাণ কেন্দ্র পদ্মা নদীর ৬ নং বেড়িবাঁধে। এক আকর্ষণীয় জায়গা কালিনগরের এই পদ্মা নদী রক্ষা বেড়িবাঁধ। দূর দুরান্ত থেকে ঘুরতে আশা ব্যক্তিরাও পড়ছে এই সব ছিন্তাকারীর কবলে।
কালিনগর গ্রাম টি দুই ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। একটি চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানার ১৪ নং সুন্দরপুর ইউনিয়ন অপর টি শিবগঞ্জ থানার ১৩ নং ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়ন। আর এই কালিনগর গ্রামে দুইজন চেয়ারম্যান রয়েছেন একজন আওয়ামীলীগ সমর্থিত অন্যজন বিএনপি সমর্থিত। আর দুই পাওয়ার ফুল দলের দুইজন পাওয়ার ফুল চেয়ারম্যান থেকেও এই কালিনগর গ্রামে এত ছিন্তাই এর মত ঘটনা ঘটেই চলেছে যা আমাদের সমাজের জন্য এক লজ্জা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে ১০ কিলোমিটার ভিতরে গেলেই পাওয়া যাবে সেই কালিনগর গ্রাম। আর কালিনগর গ্রাম থেকে পশ্চিম দিকে দুই কিলোমিটার গেলেই চোখে পড়বে পদ্মা নদী রক্ষা ৬ নং বেড়িবাঁধ। যে বেড়িবাঁধে দিনে শত শত মানুষ ঘুরতে আসেন বিশেষ করে বিকাল থেকে সন্ধার মাঝে। আর এসেই পরেন মহাবিপদে।
রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলা অবস্থায় হাত থেকে মোবাইল ছিন্তাই এর মত জঘন্য ঘটনার জন্য দ্বায়ী আমাদের সমাজ ব্যবস্থা। আর সমাজের এই সব ঘৃণিত ব্যক্তিরা ছিন্তাই ডাকাতি চুরি সহ বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। কেউ নেই দেখার কেউ নেই বলার। না সমাজের উচ্চবিত্ত বিশিষ্ট ব্যক্তিগন না প্রশাসন। সকলেই নিরব। এই সব সাধারণ জনগণ এই সব ছিন্তাকারীর হাতে দিনের পর দিন লাঞ্ছিত হবেন ও জানমালের ক্ষতি হবে তবুও চুপ উচ্চ মহাল।

Post A Comment:
0 comments: