নিজস্ব প্রতিবেদকঃ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আওয়ামীলীগ এর প্রবিন নেতা জনাব তাবারিয়া চৌধুরী কে জেলা আওয়ামীলীগ এর বিভিন্ন মহাল সহ জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা নিন্দা জানিয়েছেন। অনেকেই আমাদের জানিয়েছেন চেয়ারম্যান তাবারিয়ার বয়স হবার কারনে হুস বুদ্ধি কমে গেছে তাই উনি একজন সরকার দলীয় সাংসদ এর মৃত বাবা মাকে নিয়ে অশ্লীল ভাষা করে গালিগালাজ করেছেন। আর এমন একটি ভিডিও জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পরেছে আর উক্ত ভিডিওর ভিত্তিতে আমাদের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চেয়ারম্যান তাবারিয়ার বিরুদ্ধে ভিন্ন ভিন্ন মতামত।
ধাইনগর ইউনিয়নের জাক্কার নামে একজন ব্যক্তির কাছে জানতে চাইলে উনি জানান আমাদের চেয়ারম্যান তাবারিয়া এই সব কথা রাগে আবেগে বলে ফেলেছন কিন্তু বলার পরে বুঝতে পেরেছেন তার ভুল হয়েছে।
বাসির নামে একজন ব্যক্তি জানান বর্তমান এমপি ডাঃ শিমুলের সাথে তার কি নিয়ে ঝামেলা চলছে বলতে পারব না তবে সেই ঝামেলা কে কেন্দ্র করেই এই ভাষায় কথা বলেছে আমাদের চেয়ারম্যান।
শিবগঞ্জ বাজারের রইশুদ্দিন নামের এক ব্যক্তি আমাদের জানান সৈয়দ নুরুল ইসলাম এসপি কে খুশি করার জন্য তাবারিয়া চেয়ারম্যান এমপি কে এই ভাবে গালিগালাজ করেছে যা অন্যায় আমি এটার তিব্র নিন্দা জানাই।
শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অফিসার জানান চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী কে দেখি দুই দিন দিন পর পর আমাদের অফিসে এসে কোন বিষয়ে না জেনে খোঁচাখুঁচি করে পরে আমরা বুঝিয়ে দিলে উনি বোঝেন কিন্তু এটা উনার একটা বদ অভ্যাস বলে জানান অফিসার।
আহসানুল হাকিম শ্যাম্পুর ইউনিয়নের একজন ব্যক্তি জানান চেয়ারম্যান হয়ে কিছুদিন থেকে দেখছি সব জাগাতে তাবারিয়া চৌধুরী কে নিয়ে তর্ক হচ্ছে আমাদের ইউনিয়নেও উনার এই অরুচিকর বক্তব্য নিয়ে অনেকেই নিন্দা জানিয়েছেন।
আর জেলা জুরে যখন নিন্দার ঝর বইছে ঠিক সেই সময় আমরা জানতে চাইলাম জেলা আওয়ামীলীগ এর বর্তমান সাধারণ সম্পাদক সাবেক এমপি আব্দুল ওদুদ বিশ্বাস এর কাছে - চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী একজন সরকার দলীয় সাংসদ এর মৃত মা বাবা তুলে অশ্লীল ভাষা করে যে গালিগালাজ করলেন এখানে আপনি একজন জেলা দলের সাধারণ সম্পাদক হয়ে বিষয় টি কি ভাবে নিচ্ছেন। এমন প্রশ্ন আব্দুল ওদুদ বিশ্বাস কে করা হলে উনি জানান--- সেই ভিডিও টা আমিও দেখেছি তবে এই ভাবে অরুচিকর মন্তব্য একজন চেয়ারম্যান হিসেবে করা উচিৎ হয়নি।
গত কয়েকদিন আগে ধাইনগরের এক স্থানীয় জনসভাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ -১ আসনের মাননীয় এমপি ডাঃ শিমুলের মৃত মা বাবা তুলে অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে বিপাকে পরেছেন ধাইনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী। জেলার বিভিন্ন যায়গা হতে নিন্দার ঝর উঠেছে চেয়ারম্যান তাবারিয়ার বিরুদ্ধে। অনেকেই বলছেন বয়সের দোষ অনেকেই বলছেন আবেগে আবার কেউ কেউ বলছেন রাগে ক্ষোভে এই ভাবে ডাক্তার শিমুল কে গালিগালাজ করেছেন চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে জেলা আওয়ামীলীগ এর বেশ কয়েকজন আওয়ামীলীগ সমর্থিত নেতাকর্মী এই অস্লিল ভাষায় গালি দেওয়া কে ভাল চোখে দেখছেন না বলে জানান অনেকেই। তাদের মতে এই ভাবে একজন উপজেলার সরকার দলীয় সর্ববচ্চ অভিভাবক এর মৃত মা বাবা তুলে গালি দেওয়া চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরীর সোভা পাইনি।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ আসনের মাননীয় সাংসদ জনাব ডাঃ শিমুল এমপির কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে মাননীয় এমপি জানান তাবারিয়া চৌধুরী আমার অনেক সিনিয়র একজন নেতা আমি উনার বিষয়ে খারাপ বা ভাল কোন কিছু মন্তব্য করতে চাচ্ছিনা। তবে আমার মরহুম পিতামাতা কে নিয়ে বাজে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার জবাব আমি সাথে সাথেই দিতে পাড়তাম কিন্তু আবার ভাবলাম কুকুর কামরালে পালটা কুকুর কে কামর না দিয়ে ধৈর্যধারণ করায় শ্রেয় তাই নিজে ধৈর্যধারণ করে রয়েছি।
শিবগঞ্জ উপজেলার অনেক সিনিয়র নেতাকর্মী জানান এই তাবারিয়া চৌধুরী শিবগঞ্জ উপজেলার কোন সাংসদের সাথে ভাল সম্পর্ক স্থাপন করতে পারেনি। যেই এমপি হয় তারই বিরোধিতা করেন উনি। সাবেক প্রতিমন্ত্রী জনাব ব্রিগেডিয়ার এনামুল হক- সাবেক এমপি জনাব গোলাম রাব্বানী ও বর্তমান এমপি ডাঃ শিমুল সহ শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগ এর সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আতাউর রহমান সহ সকলের সাথেই একের পর এক ঝামেলা লেগেই থাকে চেয়ারম্যান তাবারিয়ার।
অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন আসলে সকল এমপি মন্ত্রী মন্দ না চেয়ারম্যান তাবারিয়া মন্দ লোক তা জানিনা তবে অনেক দিন থেকেই দেখে আসছি উপজেলার উচ্চ পদের নেতাদের সাথে কখনো বোনিবনা থাকেনা চেয়ারম্যান তাবারিয়ার।
গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ২ নং ধাইনগর ইউপি থেকে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচন করে জয়লাভ করেন চৌধুরী তাবারিয়া চেয়ারম্যান। উনি শিবগঞ্জ উপজেলার ধাইনগর ইউনিয়নের একজন আওয়ামীলীগ এর প্রবীণ নেতা। আর একজন প্রবীণ নেতা হয়েও কেন উনি বার বার সমালোচনা মুখে পরেন তা জানতে চাইলে মুঠোফোনে চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলেও উনি কল ধরেন নি।
গতকাল কয়েকদিন থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চেয়ারম্যান তাবারিয়াকে নিয়ে বেশ হৈচৈ চলছে। অনেকেই উনার বিগত আমলের কথা বার্তা তুলে ধরে পোস্ট করছেন যা খুব লজ্জাজনক।
আবার কেউ কেউ বলছেন চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী এক সময় আওয়ামীলীগ ছেড়ে বিএনপিতে যোগদান করেছিলেন কিন্তু বিএনপির রাজনীতির সাথে বেশিদিন টিকতে পারেন নি পরে বিএনপি ছেড়ে এসে আবার আওয়ামীলীগে যোগ দেন চেয়ারম্যান তাবারিয়া চৌধুরী।

Post A Comment:
0 comments: